মেঘের কোণে কোণে ভর করে থাকা চিহ্নেরা গোপনে লুকোচুরি খেলে। ফেরারি বাষ্পের সাথে পৃথিবীপৃষ্ঠের অন্তরঙ্গতা বিলোপ পেলে ছিঁড়ে যায় লাল সুতো আর পিছুটান। সম্পর্কেরা আহত হয়। মাথার অসহ্য যন্ত্রনার মত সব লুকোচুরি খেলা হাত বাড়িয়ে ডেকে আনে মায়াজাল। সন্দেহের আকাশে কালো কালো বলিরেখা ফুটে ওঠে। মৌরী ফ্লেভারের ফ্লেক থেকে ছুটে আসে গভীর প্রাণচাঞ্চল্য। অসহায় নারীর যৌনবেদনার মত দিকশূন্য ভ্রমন করে বেড়ায় বৃষ্টির ফোঁটা। এখনও কি রাগের মাথায় বাড়ি মেরে বসিয়ে রেখেছ! তোমার ভূগোল খাতা, নতুন প্রেম, কম্পিউটার ক্লাস, ফুচকা, পাপড়ি চাট, বইয়ের প্রথম পাতায় প্রেমিকের নাম লেখা, মোবাইলের পুরোনো ছবি মুছে দেওয়া, হিপ হপ গান বাজনা আর সালোয়ার কামিজের দু'ইঞ্চি ছাড়া ভাঁজ এক একটা সোনালী বাস্তবে ছুঁড়ে দেওয়া বিলীয়মান রঙের মতই উজ্জ্বল। তবু ঘ্রাণে তোমার চুলগন্ধ আমার সারারাত মাথার যন্ত্রণা ডেকে আনে। হাতঘড়ি সময় মেপে মেপে জানায় তোমার মামাবাড়ি থেকে ফেরার দিনের কথা। নিউরোনগুলো একে একে জড়ো হয় তোমার বাঁ পাশে। আমার কপাটিকা বন্ধ হয়ে যাবার আগে তোমার ছবি তুলে রাখে। রক্তের চলাচলে সে ছবি কোশে কোশে পৌঁছায়। যেকোন কোশের নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওলাসে টাঙানো থাকে সে ছবি। পারলে দেখো কখনো।
চিহ্নেরা খবর নেয় না। ওরা খবর খুঁজে আনে। সঠিক চিহ্নের ব্যবহার সঠিক খবরের কানের লতিতে আটকে থাকে। ওরা সাপের মত, দেখতে পায় না। শুনেই ঠিক করে ওদের গতিবিধি। তাই আমি চিহ্নের উপর নির্ভরশীল। ঠিক বইমেলার রাতের মত সমস্ত কাজ শেষে ফিরে আসে পুরনো বইয়ের তাক। এক টাকায় কেনা পঞ্চাশজন রাশিয়ান কবির কবিতার বাংলা অনুবাদ, সাথে রুশ ভাষায় লিখিত আসল কবিতাও। বাংলা নববর্ষের আগের রাতের প্রত্যেক মেসেজে তোমার মা হওয়ার ইচ্ছেগুলো নেমে এসেছিল রাস্তায়। মধ্যরাতে তোমার পায়ে হাত দিয়ে নেমে এসেছিল প্রেম। এসব আগের বছরের কথা। গাছের ফাঁক দিয়ে দেখা ঝুল বারান্দা জানে সে কথা আর জানে ইঁটরাস্তার কতক ইঁট। পূর্ণিমা রাতে আসন্ন নববর্ষের উল্লাসও জানে। শুধু ফুচকা কাকু জানে না। জানে না তোমার কলেজ না যেতে চাওয়া ইচ্ছেগুলো।
নাইট ল্যাম্পের আলো জ্বলা গ্রীষ্মের প্রচন্ড রোদে দরজা জানলা বন্ধ করা ঘরে পড়ে থাকা আমার দেহ আর গান জানে কতটা পুড়ে গেলে বছর বছর ধরে অভিযোজন ব্যহত হয়। এক একটা কবিতা এসে আছড়ে পড়ে মাথায়। ঘিলু কেঁপে ওঠে। দিনরাত কবিতা পড়া লেখা শোনার ইচ্ছেগুলো তোমার মতই একলা আমার সারা শরীরময় দাপাদাপি করে। আমি পরগাছার মত তোমার আর ওদের শরীরে বিলীন হই। তবে এখানে সম্পর্কটা শুধু খাদ্য খাদকের নয়, বিক্রিয়ারও।
আকাশ কালো করে আসা বৃষ্টির পূর্বাভাস কখনও স্থান নির্দিষ্ট করে না। ওরাও চঞ্চল আমাদের মত। কভার ফাইলে ভর্তি সাদা পাতাগুলো অপেক্ষা করে থাকে কখন ওর পাশে থাকা কালো দাগগুলো ওকেও কলঙ্কিত করবে। কখন ওর সারা শরীরে চাপ দেবে প্রিন্টার বা জেরক্স মেশিন। আমিও অপেক্ষায় থাকি। ওদের মত। তোমার। দীঘা থেকে শুরু করে বাঁকুড়া, পুরী, আসানসোল, শিলিগুড়ি ও আরও অনেক জায়গার জল খেয়ে আমি ততদিনে অপেক্ষার রঙে রেঙে উঠেছি আর তুমি ধরেই নিয়েছ এ গাছ উপড়ে নিলেও শিকড় মাটির অনেক গভীরে প্রবেশ করেছে।।
একান্তই ব্যক্তিগত, তবে আপনার সাথে শেয়ার করলে তা আরও ব্যক্তিগত হয়ে উঠতে পারে বলেই আমার মনে হয়। কিছু লেখা আপনার জন্য, নীচে আপনার মতামত পেলে আমারও কিছু সময় খরচ হয়।
রবিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
একটা গদ্য লেখার ইচ্ছে / রাণা বসু
এতে সদস্যতা:
মন্তব্যগুলি পোস্ট করুন (Atom)
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন