বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

মানুষ থেকে গরু – এক ভয়ানক মনস্তাত্ত্বিক রূপান্তর

Boanthropy – শব্দটি এসেছে গ্রীক শব্দ ‘Bos’ অর্থাৎ গরু এবং ‘Anthropos’ অর্থাৎ মানুষ এর সংমিশ্রণে। এটি এমন এক মানসিক অবস্থা যেখানে মানুষ নিজেকে গরু ভাবতে শুরু করেন এবং সেই অনুযায়ী আচরণ করেন। যেমন – ঘাস খাওয়া, চতুস্পদ প্রাণীর মতো হাঁটা, গরুর মতো ডাক দেওয়া ইত্যাদি।


বৈশিষ্ট্য : –

  • ব্যক্তির বিশ্বাস – তিনি মনে করেন যে তিনি সত্যিই গরু।

  • আচরণগত পরিবর্তন – মাটিতে হাঁটা, ঘাস খাওয়া, গরুর মতো আওয়াজ করা ইত্যাদি।

  • সচেতনতা হারানো – অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তি বুঝতেও পারেন না তিনি অস্বাভাবিক আচরণ করছেন।


সম্ভাব্য কারণ : – 

  • মনস্তাত্ত্বিক আঘাত (Psychological Trauma)

  • স্বপ্ন বা হিপনোসিস থেকে উদ্বুদ্ধ ধারণা

  • মনোরোগ যেমন Schizophrenia বা Bipolar Disorder

  • অবিশ্বাস্য রকমের আত্মপরিচয় সংকট


ঐতিহাসিক তথ্য : – 

রাজা বিতীয় নেবুচাদনেজার (Nebuchandnezzar, যার অর্থ “নবু, আমার উত্তরাধিকারীর উপর নজর রাখো”) নামে প্রাচীণ ব্যাবিলনের রাজা,  যিনি লেভান্টে তাঁর সামরিক অভিযান এবং ইহুদি ইতিহাসে তাদের ভূমিকার জন্য এবং ব্যাবিলনের ঝুলন্ত উদ্যানের জন্য বিখ্যাত, একবার গরুর মতো আচরণ শুরু করেছিলেন। কথিত আছে, রাজা (নাকি) ৭ বছর ধরে এই ভয়ানক রোগে আক্রান্ত ছিলেন। বাইবেলে (Book of Daniel 4)-এ এটির উল্লেখ আছে, যা অনেকেই Boanthropy-এর প্রাচীণতম বর্ণনা বলে মনে করেন। 



চিকিৎসা : –

Boanthropy সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রোগ না হলেও এটি একটি অসাধারণ মানসিক উপসর্গ হিসাবে ধরা হয়। চিকিৎসা হিসাবে ব্যাবহার করা হয় –

  • সাইকোথেরাপি

  • মেডিকেশন ( যদি Schizophrenia বা Bipolar Disorder থাকে)

  • কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (CBT)

  • ধৈর্য্য ও মনোসমর্থনের মাধ্যমে



অন্য দৃষ্টিভঙ্গি : –

Boanthropy কখনও কখনও নাটক, সাহিত্য বা সিনেমায় প্রতীকী আত্মপরিচয়ের ভাঙন বা নি:সঙ্গতা বোঝাতেও ব্যবহৃত হয়।


কখন শুরু হয় : –

  • ঘুম ভেঙে উঠে আচমকা বিশ্বাস

  • হিপনোটিক ট্রান্সে গিয়ে ধারণা জন্মায়

  • কখনও কখনও ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতার পর

একটি আকর্ষনীয় তত্ত্ব বলে – কোনও কোনও সময় ব্যক্তি এমন মানসিক চাপে পড়েন যে তিনি বাস্তব জীবন থেকে পশু জীবনে পালিয়ে বাঁচতে চান।



আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা (Spiritual Interpretations) : –

অনেক ধর্মীয় বা উপজাতীয় বিশ্বাসে Boanthropy একধরণের দেবতা বা প্রাকৃতিক শক্তির অধিগ্রহণ বলে ধরা হয়। অনেক শামান ( shaman) বা সাধু-সাধিকা নানা পশুর আচরণ নকল করে ধ্যান বা সংযোগ স্থাপন করতেন। সেখান থেকেও এই রোগ জন্ম নিতে পারে। 



Boanthropy নিয়ে গবেষণা : –

এটি নিয়ে খুব বেশি বৈজ্ঞানিক গবেষণা হয়নি, কারণ এটি অত্যন্ত বিরল। এখনও পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে এই রোগের ডকুমেন্টেড রোগী মাত্র ৩৫-৪০ টি, তবে অঘোষিত কম-বেশি হতে পারে – বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে বা ধর্মীয় পরিবেশে।


একই ধরণের শব্দ : –

Boanthropy মূলত Zoanthropy -র একটি নির্দিষ্ট প্রকার। Zoon -র অর্থ পশু আর Anthropos অর্থাৎ মানুষ, একসাথে -- যে সমস্ত মানুষ পশুর মত আচরণ করেন, তাদের বোঝায়।

একইরকমভাবে, Lycanthropy (Lycos -র অর্থ নেকড়ে) ও Cynanthropy (Kyon -র অর্থ কুকুর) হয়ে যাওয়ার বিভ্রম ইত্যাদি প্রভৃতি।



Boanthropy জিনগত নয়, কিন্তু ব্যক্তিত্বের ধরণে নির্ভর করতে পারে 

যারা অতিমাত্রায় সংবেদনশীল, কল্পনাপ্রবণ বা ভেতরে ভেতরে পালিয়ে যেতে চায় বাস্তবতা থেকে, তাদের Boanthropy হবার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি।



এরা আয়নার দিকে তাকাতে ভয় পায়

Boanthropy-তে আক্রান্ত রোগীরা আয়নার দিকে তাকাতে ভয় পায়, কারণ এরা নিজেদের মানুষরুপে দেখতে চায় না। এরা আয়না ঢেকে রাখে অথবা ভাঙে। 

Boanthropy নিয়ে কাজ

এটা এমন একটা থিম যা নিয়ে দারুণভাবে কাজ করা যেতে পারে সিনেমা বা ওয়েব সিরিজে। কারণ এতে আছে –

  • মনস্তত্ত্ব

  • সামাজিক বিদ্রুপ

  • আত্মপরিচয়ের প্রশ্ন

  • এক (ভয়ংকর) মানবিক ট্র্যাজেডি


Boanthropy-কে অনেকসময় ‘Existential Crisis'-এর চূড়ান্ত রূপ বলা হয়

নিজের পরিচয় হারিয়ে, নিজের মানব সত্তাকেই অস্বীকার করে কেউ যদি প্রাণী হয়ে ওঠে এবং সেটা বিশ্বাস করা শুরু করে – তাহলে সেটা আত্মপরিচয়ের শেষ ধাপ। এটিকে একধরণের মনোবিশ্লেষণমূলক সিম্বল হিসাবেও দেখা যায়।



Boanthropy এবং Temporal lobe Epilepsy

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মস্তিষ্কের temporal lobe-এ অস্বাভাবিকতা আছে (বিশেষত epilepsy), তারা অনেক সময় বিভ্রমে ভোগে – নিজের শরীর, নাম এমনকি জীবের পরিচয়ও ভুল মনে করে।

Boanthropy এই ধরণের বিভ্রমের চূড়ান্ত রূপ হতে পারে।



Boanthropy-তে আক্রান্ত অনেক রোগী বলেছে – তারা অনুভব করে “একটি পশুর আত্মা তাদের শরীরে ঢুকেছে”

এটা শুধু বিভ্রম না, অনেকসময় এটি একটি Spiritual Possession feeling হয়ে দাঁড়ায় – বিশেষ করে যেসব সংস্কৃতিতে পশু আত্মা নিয়ে বিশ্বাস প্রচলিত ( যেমন – আফ্রিকা, আমাজন, ভারতীয় আদিবাসী অঞ্চল)।


Boanthropy কখনও কখনও “Identity Regression Therapy” হিসাবেও দেখা হয়

মানসিক বিশ্লেষণে একে regression to a primal state বলা হয়। মানে, মানুষ চাপে পড়ে ‘সভ্য মানুষ’ থেকে পিছিয়ে যায় প্রাচীণ, সহজাত প্রাণীর স্তরে।



আধুনিক ভার্চুয়াল রিয়েলিটি(VR)-তেও Boanthropy হতে পারে

২০২৩ সালে এক গবেষণায় VR হেডসেটে দীর্ঘ সময় গরুর মতো মোডে থাকার পর এক ব্যবহারকারী আত্মপরিচয় হারিয়ে কিছুদিন গরু ভেবেছিলেন নিজেকে। 

একে বলে technological induced Boanthropy!



Boanthropy ও Mirror Neurons-এর সম্পর্ক

আমাদের মস্তিষ্কে কিছু বিশেষ কোষ আছে – যাকে বলে Mirror Neurons,যা অন্য প্রাণীর আচরণ নকল করতে সাহায্য করে ( যেমন – শেখা, অভিনয়)। Boanthropy-র রোগীদের মধ্যে এই Mirror Neurons অত্যধিক সক্রিয় হয়ে পড়ে, যার ফলে তারা শুধু দেখে নয় – অনুভবও করতে শুরু করে যে তারা গরু।



Boanthropy, Art therapy এবং নিরাময়

Boanthropy-র রোগীদের চিত্র আঁকা বা মাটির কাজ (clay modeling)-এর মাধ্যমে পশু রূপ থেকে মুক্ত করার চেষ্টা করা হয়।

রোগীকে নিজের আঁকা ছবিতে “মানুষ” ফুটিয়ে তুলতে বলা হয়। 

এই পদ্ধতিকে বলে self-reconstruction through expression –এটি অত্যন্ত কার্যকর।



কিছু বিশেষ তথ্য :


  1. Boanthropy কখনও কখনও ‘মনুষ্যত্ব থেকে মুক্তি পাওয়ার আাকাঙ্খা’ হিসাবেও দেখা হয়

বহু মনোবিদ বলেন, Boanthropy শুধু বিভ্রম নয় – এটা মানব সভ্যতার ক্লান্তিকর বাস্তবতা থেকে মুক্তির চিৎকার।

যুদ্ধ, কর্পোরেট দৌড়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রত্যাশা – এসব ছেড়ে কেউ যদি মনে করে “আমি গরু হলে শান্তিতে থাকতাম”, তাহলে সেটা কি সত্যিই পাগলামি?


  1. Boanthropy ও জেন দর্শন

জেন দর্শনে বলে – “ তুমি যদি পাথর ভাবো নিজেকে, তুমি পাথর”। 

Boanthropy-র একধরণের ব্যাখ্যায় দেখা যায় – এটি সত্তার নতুন উপলব্ধি, যেখানে ‘মানুষ’ আর ‘পশু’ আলাদা নয়।

কিছু জেন মাস্টার নিজের চেতনা প্রসারণে পশু হয়ে ওঠার অভিজ্ঞতা নিয়েছেন এবং এটিকে “বুদ্ধিপূর্ণ ধ্যানের চূড়ান্ত রূপ” আখ্যা দিয়েছেন।


  1. Boanthropy এবং Cellular Memory তত্ত্ব

কিছু গবেষক বিশ্বাস করেন আমাদের দেহকোষে পূর্বজন্ম বা প্রজাতির স্মৃতি লুকিয়ে থাকে। Boanthropy-তে সেই পুরনো “গরু সত্তা” হঠাৎ করে স্মৃতি হিসাবে জেগে ওঠে।


  1. Boanthropy রোগীরা প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সংযোগ অনুভব করে

  • এরা গাছের পাতায় শান্তি খুঁজে পায়।

  • পাখির ডাক শুনে কাঁদে।

  • আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে – “ মানুষ কেবল আকাশ দখল করতে চায়, আমি শুধু দেখতে চাই”।

বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

 ১টা প্রকল্পভিত্তিক লেখা / রাণা বসু

 


       


ঘরটার দুপাশে দুটো প্যারালাল দরজা। দুদিকে দাঁড়িয়ে রয়েছে দুটো উদোম অসমবয়সী পুরুষ। ওরা দেখতে চায় কীভাবে একটা -দুটো- তিনটে-….. - হাজার -লক্ষ শুক্রাণু কী পদ্ধতিতে ডিম্বানুর দিকে ধেয়ে যায়। ওদের জঙ্ঘার পাশে ঝুলে আছে ভ্যালি অব ফ্লাওয়ার্সের আদি অকৃত্রিম বীচিযুগল, সাথে উন্নত যাদুদন্ড যা থেকে বেরিয়ে আসবে লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি ড্যাঁরা মাছ সদৃশ শুক্রাণু। তারপর তারা সমস্ত উল্লম্ব অনুভূমিক বাধা পেরিয়ে ছুটে যাবে বিন্দুসদৃশ ডিম্বানুর দিকে। ঘটে যাবে নিষেক।

১একটা ফুলগাছে ফল হবে

এক১টা ফলগাছে ফুল



জীবনের আলো আঁধারের রহস্য উদ্ঘাটিত হবে তাদের চোখের সামনে। তারা অপেক্ষারত। বিকেল পর্যন্ত তারা এইভাবে অপেক্ষা করল। কারন, তারা মানুষের মিলনের সময়কাল হিসেবে বেছে নিয়েছে বিশুদ্ধ রঙ কালোকে।

সন্ধ্যে নামতে বিলম্ব নেই বেশি। তাদের প্রত্যেকের চারপাশে ছোট ছোট বাটি বসানো। ওরা হস্তমৈথুনে মনোনিবেশ করল। সন্ধ্যে নামল। প্রায় দশমিনিট পর বেরিয়ে এল সেই কাঙ্খিত তরল যা হাজার লক্ষ কোটি শুক্রাণুতে পরিপুষ্ট। ওরা ধীরে ধীরে ভর্তি করল বাটিগুলো। তারপর উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করতে লাগল।

ওরা তখন ঝিমিয়ে পড়েছে। হাত-পা ছড়িয়ে বসে আছে দৈববাণীর অপেক্ষায়।প্রায় ঘুম নেমে আসা চোখে ওদের কানে ক্ষীণ বেজে গেল দৈববাণী -- “ওঠো, জাগো | স্থাপন করো |”

ওরা উঠল। এক ১টা বাটির তরল ১একজন মৃতদেহের ঊরুতে ঢেলে দিল। তারপর অপেক্ষা করতে লাগল সেই সন্ধিক্ষণের সাক্ষী হবার। গোটা ঘরটায় ১টা হালকা গোলাপী রঙের আলো ছড়িয়ে আছে। ওদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি সদাজাগ্রত কোথায় কোন মৃতদেহের ঊরু থেকে সেই তীব্র তরল মুক্তিবেগে ছুটে যাবে তাদের কাঙ্খিত জোড়ের উদ্দেশ্যে। সন্ত্রস্ত ভীত চোখে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ওরা বিরক্ত হয়ে উঠল। ওরা পড়ে শুনে জেনেছে ফ্যাদা বেশিক্ষণ বাঁচে না। 


বয়সে তুলনামূলক বালক পুরুষটি বলল - এইজন্য পুরো প্রক্রিয়াটা কি ভিতরে সংঘটিত হয়! অন্যজন মুখে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বলে বলল - চোপ্, গুদির ব্যাটা। নো কথা।


এই হঠাৎ আচরনে প্রথম পুরুষটি পুরো থম্ মেরে গেল একেবারে।


অনেক রাতে মৃতদেহগুলি যখন শাদা ফ্যাকাশে হয়ে গ্যাছে, ওদের বীর্য মাথায় উঠে গ্যাছে, তখন ওরা পাগলের মত এক ১টা মৃতদেহকে ঘাড় ধরে তুলে বসিয়ে নাক মুখ চোখ কান মাই নাভি গুদে ঘষতে লাগল ওদের ঠাটানো শক্ত কাঠ।




তারপর মৃতদেহগুলোকে শীর্ষাসনে স্থাপন করে আর ১বার করে ঢেলে দিল সেই অমৃতসুধা। তরলটি তার ধর্ম মেনে নেমে চলল গহ্বরে। আরও নীচে, গভীর থেকে গভীরতর স্থানে নেমে গেল মধ্যম অবস্থার পদার্থটি। পৃথিবীর থেকেও বড় নক্ষত্রের মধ্যে ঘটে চলল ২ বিপরীত আধানের সংঘর্ষ। আদতে গৃহযুদ্ধ। শেষে গহ্বরের গভীরতম স্থানে পৌঁছে যাওয়া শুক্রাণুকে ৪পাশ থেকে ঘিরে ফেলা ডিম্বানু চাপ দিতে থাকে ক্রমশ।


অালো না আসা এইস্থানে শুক্রানু বুঝতে পারে না কী করবে!

অবশেষে ঝোপ বুঝে খাপ খোলে ১ডিম্বানু। পাতি বকরাক্ষসের মত শুক্রাণুটাকে জড়িয়ে ধরে চলে গেল এক খালি প্রকোষ্ঠে। তারপর চলল ঝাড়াই মাড়াই। সবশেষে ভীত স্থাপন। যার ওপর নির্ভর করে গড়ে উঠবে সমগ্র জীবজগৎ। গড়ে উঠবে ইঁট কাঠ পাথর আসবাবপত্র মাটি -- এমনকি মহাকাশ-গ্রহ নক্ষত্রও।

ওরা ফিরে গেল। রেখে গেল বীজ। যার পরবর্তী নাম হবে “প্রকল্প” |

যেদিন সকালটা মেঘলা থাকে

সংখ্যা তৃতীয়
★★*★★*★★
একটা সংখ্যা ধরে
x পর্যন্ত পৌঁছচ্ছি
যেখানে বাড়ি ও বেলুন
বেলুনের আকার ও বিস্তার

তৃতীয় ধাপে এসে
স্বতঃসিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলাম
যেভাবে প্রেম ও ধর্ম
নেকড়ে বাঘের মত গর্জন করে

এক্স ওয়াই ও ফোটন
★*★*★*★*★*★*★*★
"=" চিহ্ন দিয়ে এসে
নীচে এক্স ওয়াই রেখে দিয়েছি
শক্তি নষ্ট করতে করতে
যেখানে এসে পৌঁছেছি
সেটাও শক্তি

ফোটন কণা দিয়ে গুণ করে
শক্তির বিভাজন হবার আগেই
পুড়ে চৌকাট হয়ে যাই
আলো ক্ষীণ হয়ে আসে
সমস্ত রাতের

দরজার বিপরীত দরজা
জানলার বিপরীত জানলা
শ্মশানের বিপরীত শ্মশান

আলফা সেন্টাওরি
***★***★***★***
শীলবাড়ি থেকে উত্তরের
বাতাসের দূরত্ব মেপে নিচ্ছ!
বাড়ি শুধু সময়ের

পাথরের বয়স যখন
সীমানা পেরিয়ে যায়
ফিরে আসে রোমান হরফ
আগুনও অক্ষর হয়ে ওঠে

রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২২

দেখা ও না দেখা


একটা সানশ্যেড। তার উপরে কিছু জিনিস রাখা। তার ওপরে পুরনো সিন্থেটিক কাপড় ঢাকা দেওয়া। উপরের দেয়ালের দেখতে পাওয়া অংশে ঝুল পড়েছে। শ্যেডের ঠিক নীচে আরও কিছুটা দেয়াল। মাঝে দরজা। দুপাশে দুটো জানলা। দেয়ালে ২০২০ বিশ্বকাপের সিডিউল লাগানো। তার উপরে একটা ছোট রোনাল্ডোর ছবি।


রাত আটটা ত্রিশ। দালানে একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসা একটা বছর ত্রিশের ছেলে। ছেলেটার ঠিক মাথার ওপর একটা টিউব লাইট জ্বলছে। একটা শাদা ফ্যাকাশে আলো হ্যাংলার মত চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ২০২০-য় প্রয়োজন-অপ্রয়োজন বুঝে না-বুঝে কেউ নিজেকে দান করে দিচ্ছে, এরকমটা দেখা যায় না। ছেলেটার মুখের দিকে একটা টেবিল আর মুখটা বিকেলের মত। টেবিলের ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র। তার পাশেই একটা ইমারজেন্সিলাইট চার্জে দেওয়া আছে। কতক বাসন রাখা। তার পাশে একটা ছোট্ট মিটসেভ। তার পাশে গ্যাস ওভেন আর সিলিন্ডার। ছেলেটার পিছন দিকে একটা আনলা ও তার পিছনে দেয়াল। 


সময়টা শীতকাল। আর একটু পরেই রাতের খাওয়া-দাওয়া সারা হলে যখন লাইট নিভে যাবে, বাইরের অন্ধকারের গাঢ়তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে, উঠোনের জমে থাকা স্টোনচিপস্ - গাছের শুকনো পাতা - ভেঙে পড়ে যাওয়া বেড়া - মাচার ওপর শিশিরে দেওয়া শাক্ ও ধনেপাতা আর বেল-অপরাজিতা-জবা-টগর-গ্যাঁদা-রাসফুলের গাছ ও সুপুরি-কলা-মেহগণি গাছেরা গল্পে মেতে উঠবে। অথচ সকালে ঘুম থেকে উঠে ছেলেটা দাঁত মাজতে মাজতে যখন ঘুরে বেড়াবে উঠোনের চারপাশে, তখন একটুও বুঝতে পারবে না কিভাবে গাছগুলো জায়গা পরিবর্তন করে নিয়েছে। একটা জবা অন্য জবার জায়গায় গিয়ে বসেছে, গতকাল ডানদিকে থাকা সুপুরি গাছটা।


আজ উত্তর দিকে - আবার পুকুর পাড়ে থাকা আনারস গাছটার জায়গায় গিয়ে উঠেছে গ্যাঁদাগাছটা। আসলে ওরা সবাই জ্ঞাতি। 

মানুষ সব বোঝে, এটা বোঝে না। ছেলেটাও বোঝেনি। সকাল বুঝেছে। তাই রাতের অন্ধকারকে পরিহাস করার জন্য ও প্রতিদিন আসে। 

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট, ২০১৯

পেখম / রাণা বসু

  
এখন এখানে বসেই আরো একটা গাছের দিকে তাকিয়ে থাকা যায়। কোনো কিছুর প্রভাব থেকে নিজেকে আড়াল করার কারণ খুঁজতে গিয়ে যখন জীবনটা শেষ হয়ে যাচ্ছে, তখন ভাবি প্রভাব কি শুধু ওরই ছিল, আমার ছিল না ওর ওপর!

এখানে গ্রহ নক্ষত্র নিহারিকা সপ্তর্ষিমন্ডল নিয়ে কথা বলার সুযোগের অপেক্ষায় বহু লোক হাপিত্যেশ করে বসে থাকে, তারপর তাদের দেখা ঘটনার সাথে কেমিক্যাল্ মিশিয়ে তৈরী করে আর একটি ঘটনা। হয়ত সেটা নতুন, হয়ত পুরনো, কিন্তু বাস্তব নয়, পরাবাস্তবও নয়। জাদুবাস্তবতা নিয়ে কথা বলার লোক আমি নয়। ব্যাপারটা কেমন পরাধীন পরাধীন লাগে। বরং এই সময়গুলোতে ছিপ ফেলতে ভালো লাগে, মাছ ধরা পড়লে কাঁটা থেকে ছাড়িয়ে জলে ফেলে দিয়ে আবার ছিপ নিয়ে বসি, ওই একই মাছ ওইদিন আর কখনও পড়ে না। মনে হয়, দিক্ নির্ণয়ের ক্ষমতা মানুষের থেকে পশু-পাখিদের অনেক বেশি।

সারাদিন একা একা থাকার প্রসঙ্গটা মারাত্মক ফেল মেরেছে জানা হয়ে যাবার পর একটু রোগা হয়ে যাবার দিকে ঝুঁকেছিলাম। এখন আরো মোটা হয়ে গেছি, সঙ্গে মোটা হয়ে গেছে আমার চিন্তা ভাবনাগুলো। দেখার শেষ হয় না জেনে যাবার পর দেখাটাই প্রান্তিক হয়ে উঠেছে। একা অর্থে আমি অনেককে পাই। যেমন একা একা আমি ট্রেনে উঠে পড়লাম অথবা একা একটা গাছের পাশে বসে আমি পুকুরের দিকে চেয়ে দেখি রোজ।

শুকনো পাতার মত পুরনো হতে চাই আমি আজ। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা শুকনো গাঢ় খয়েরি রঙের, শিরা উঠে যাওয়া, খসখস শব্দ করার অধিকারসহ, সালোকসংশ্লেষ করার অধিকারবঞ্চিত। সাইকেল বাইক বড় গাড়ির অত্যেচার সহ্য করার ক্ষমতাসহ আমি গাছের একটা অতিরিক্ত অংশের মত গাছের তলায় পড়ে থাকতে চাই।

চামড়ার ওপর করা রঙপেন্সিলের কাজের মত বিবস্ত্র হয়ে একা থাকার অধিকার আমি কেড়ে নিতে চাই রাষ্ট্রের থেকে। অথবা একা করে দিতে চাই রাষ্ট্রকে।

শুক্রবার, ৭ জুন, ২০১৯

ইজিবিজি

আজ একপ্রস্থ হাঁটলাম। অনেকদিন পর। বাড়ি থেকে বেরিয়ে হাঁটা দিয়েছিলাম সেই সকাল ৭ টায়। রোদ্দুরের পিঠে একটা মস্ত বড় আব দেখা গেছে, সবাই সেটাকে অন্ধকার বলে ডাকছে।  আমি নাম দিতে চাইলেই ঘুম পেয়ে যাচ্ছে। একটা বিভৎস শাদা রঙ কামড়ে ধরতে চাইছে আমার সারা শরীর। হাতের আঙুলগুলো ওপরের দিকে উঠে যাচ্ছে শুধু। মা বাইরে নেতাজী রচনা মুখস্থ করাচ্ছে বাচ্চাগুলোকে। আমি ঘরে শুয়ে থাকছি বিছানায়, আমি আামি…

একটাও বালতি জলে ভর্তি নেই, এই অবস্থায় বৃষ্টি হচ্ছে রোজ, কলতলাগুলো জলে ভর্তি আছে।

পশ্চিমবঙ্গের এই অংশে আমি বিছানা চাদর বালিশ নিয়ে ওপরের দিকে হাতের আঙুল তুলে রোদ্দুরের আবের একটা নাম নিয়ে ব্যস্ত, যেন কিছুই ঘটছে না চতুর্দিকে, যেন কতকাল আমার নাম নিয়ে কেউ চর্চা করেনি।

বুধবার, ২৯ মে, ২০১৯

১ টা জ্যামিতিক গ্রহণ - বর্জন




টিউবলাইট। টিউলাইট। জ্বালতে ইচ্ছে করছে না। আজই প্রথম এমন ৯। আগেও এরকম হত।শুধু আজই প্রথম উচ্চারণ করলাম।

আর হয়ত পরে কখনও উচ্চারণ করব না। সেই অমোঘ শব্দ। আলো যার পদবী। তার সঙ্গে আমার দেখা হোক সন্ধ্যেকালে। যেখানে ধোঁয়া ওঠে চা থেকে। চায়ের কাপ থেকে ৯।

-- আপনি সিগারেট খান! কেন! জানেন না, ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক?

-- তুমি জানো, ‘ক্ষতিকারক’ বলে দেগে দেওয়াটা আরও বেশি ক্ষতিকর! আর আমি সিগারেট খাই অন্যমনস্কতা তাড়াতে। এটা আমার নেশা না। আমি খুব অন্যমনস্ক, তাই।

যেমন - ঝড় বাতাসের অন্যমনস্কতা। আর কিছু ৯।

    জানলা দিয়ে একটা ঘড়ি দেখা যাচ্ছে। পাশের বাড়ির। কিন্তু আমার চোখ এখন ঘড়ির নীচের আয়নায়। ও’বাড়ির আয়নার মুখোমুখি কখনও দাঁড়াইনি আমি। দাঁড়িয়েছি মেয়েটার। আজ মেয়েটা আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

(২)

পাখা থেকে জল পড়ছে। পাখার নীচটা জলে জলোম্ময় হয়ে রয়েছে। চোখ বন্ধ করব ঠিক করার আগেই বাঁ হাত চশমাটা খুলে নিল। দেখলাম জলভর্তি পুকুর। কুয়াশায় ভর্তি চারপাশ। পুকুরের মাঝে একটা পাখা ফুটে আছে। আমি উঠে দাঁড়াতেই পাখাটা ঘুরতে শুরু করল। আমি দিক্ নির্ণয় করতে লেগে গেলাম।

শব্দ-অক্ষর-রেখা-বাক্য খুলে রেখে দিলাম।কবিতা নগ্ন দাঁড়িয়ে আছে। উপন্যাসের মত। তার সামনে আমি। সে চোখ বন্ধ করে নিল। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম।

“ || হয়ে যাবে || ’’ কথাটা মিথ্যে। পৃথিবীর সব বাক্যই মিথ্যে। কারণ, ওগুলো শুধু অক্ষর আর শব্দ দিয়েই তৈরী। এই অক্ষরগুলো বানানো। সুতরাং….

খোলা দরজা। ১ কুসুম ২ কুসুম ৩

কেউ ভাবলই না, আমি একটা নতুন তৈরী বাড়ির কথা ভাবছি। এখনও যেখানে দরজা বসেনি। পাশে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

        খোলা

          বন্ধের মত

     না খোলার মত ৯

এমনকি এটা নারকেল বা কোন

পাকা বুড়ো ঝিঙের কথাও হতে পারে

        (৩)

‘নিষ্পাপ’ একটা অন্ধের নাম। চোখ নাক মুখ থেকে ঠিকরে বেরনো নীল তাজা কাচের মত। যেন রক্ত - যেন ফ্ল্যুইড।

ভেতর থেকে বাইরে থেকে কোনওকিছুই বলা যাচ্ছে না। বলা আসছে না। যেন হঠাৎ গ্রীষ্মের রাতে শীত পড়ে গেছে। গা-হাতে খুব ব্যথা। এমনকি একটা জোনাকিও নেই যাকে অনেকদূর থেকে চাঁদ বলে ভুল করা যেতে পারে। ঠিক করা যেতে পারে। অথবা পারে না। যেন করাই যায় না। যেন না - যেন হ্যাঁ।

    কা - কা - কা - কা

    কা -        - কা -

প  -   - প


    প -        - প -

এটা কবিতা - এটা গল্প - এটা গদ্য - এটা বিভব - এটা পাখি - এটা ফুল - এটা কুঁড়ি - এটা বাতাস - এটা প্রেম - এটা - না - না - সেটা চাঁচর - সেটা গাজর - সেটা কলা - সেটা তেল - সেটা গাঁঢ় - সেটা - উঁ - হুঁ - ওটা শিশি - ওটা কালি - ওটা উই - ওটা পেঁপে - ওটা চেয়ার - ওটা - ওহ্ - হো - এই গাছ! এই কাম! এই পুরুষ! এই নারী! এই রক্ - তো!- এ-ও-ই-উ-ঁ

        (৪)

চূড়ান্ত L হয়ে আছি। এটা এইমুহুর্তে অক্ষরের পর্দা ছিঁড়ে বেরিয়ে এল। আমি ধারন করলাম ইংরাজীর অক্ষর বলে পরিচিত একটা ধারণাকে।

সোমনাথ বসে আছে। দোকানদার হিসাবে ওর এখন ওটাই করা উচিত। আমার খদ্দের হিসাবে উচিত ওর দিকে হাত বাড়ানো। নামানো। - বাঁড়া, তোমার দিনে ক’বার হয়!

চুপচাপ বোসো | বাল


বাবা মা শখ করে মেয়ের নাম রেখেছে লক্ষ্মী। টুয়েলভে পড়ার সময় লক্ষ্মীকে টুকটুকি বেড়ে যাচ্ছের কৈফেয়ত ও তারপর ফলস্বরূপ টুকিটাকি করতে হল। বৃহস্পতিবার -- একটা অ্যাবর্শন এ্যাক্সিসের নাম।

টিটেনাস  একটা বেড়ালের নাম। তাহলে ইঁদুরের নাম কী সেপটিক্ হতে পারে! জানালার কোথাও নালা নেই, তবু আমরা তাকে জানালা বলি। অথবা শবরীর কোথাও শব। গা রি রি করতে আমাদের বমি করতে হয়। অথচ বমিটা আমাদের পেট থেকেই ওঠে।


        (৫)

সুড়সুড়ি একটা বাংলা পত্রিকার নাম। তাতে কবিতা থাকে গল্প অনুগল্প গদ্য প্রবন্ধ ইত্যাদি। কবিরা স্পেস চায়। যেখানে তারা খেলতে নামবে। নামিবিয়া এখান থেকে অনেক দূর। যেমন - দূরত্ব শুধু ২টো নক্ষত্রেরই হতে পারে। অনেক দূরত্ব অর্থে গদ্যে “প্রেম” নামক কাঠি লেগে যায়। কাঠির গায়ে ঝুল। একটা বুলবুলি এইমাত্র উড়ে গেল। তার ডানায় ছায়ার দাগ লেগে আছে।

গাছের পাতা গাছের চেয়েও বয়সী। এমন মনোভাব থাকলে গাছ ভারী হয়ে যায়। হালকা শব্দের প্রয়োজন ফুরোলে ভারীর ভগ্নাংশে কুয়াশা লেগে থাকে। এক ১বার ফুলগাছে ফল হয়। ১ একবার ফলগাছে ফুল।

সারাদিন পর অথবা সারারাত আগে যার কথা ছিল সে সহবাস করে। বালিশ থেকে শরীর উঠে গ্যাছে। সিলিংটা নেমে আসছে দ্রুত। ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। মেঝেটা আরও দ্রুত উঠে সামলে দেয়। ঘরটা ঘনক হয়ে উঠল। তুমি ঘোড়া হও। ঘনকের কর্ণ বরাবর আমার অবস্থান।

        (৬)

ঘন দুধের চায়ে বিস্কুট -- একটা অশ্লীল বাক্য। এভাবে বিস্কুট নেতিয়ে পড়ে। তারপর থেকে তার ফুলে ওঠার গল্প।

অ্যানোড আর ক্যাথোডের মাঝের দূরত্বকে ‘প্রেম’বলে। পাশে বসে থাকা বিজ্ঞানী বাথরুম এসে দেখেন -- প্রণয় বেঁধে গেছে। কেউ কেউ গলা সাধছে। বাগানে একধারে পোকারা বিশ্রাম করছে। ওটা কলাগাছ। ওকে আমরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে শিউলি বাগানে বসে থাকতে দেখেছি। মা-বাবা-কাকা-পিসি বলে ওটা নাকি কলাবউ। এই প্রথমবার কলাগাছ কলাবউ কলা মোচা থোড় আমি গুলিয়ে ফেলেছি।

এখানে উইড একটা বিষয় হতে পারে। অথবা এই বিষয়ে কথা বলা বারন হতে পারে। প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে অর্থাৎ নিজেকে টিকিয়ে রাখতে বা কেউ কিছু লিখেছে বলেই কি আমি এই নভেম্বরে বসে এর'ম একটা লেখা লিখছি! আমার কি সত্যিই কিছু বলার নেই!! আমি কি ভীতু!!!

প্লিজ, ১টা সিগারেট দিন আর ১শ -২০ দিয়ে একটা পান। ধৈর্য্য ধরুন, সিগারেটটা খেতে দিন। না- না টোটালের স্ট্রবেরী ফ্লেভার দিন ১টা।

দাঁড়ান, দাঁড়ান, চা দিন তো একটা।

        (৭)

জীবনের চরম শব্দগুলোর পাপড়ি ঝরে পড়ার পর যেটা পড়ে থাকে সেটাই জীবন। স্বয়ং। যেমন - আলমারি থেকে কাচ খুলে নিলেও সেটা আলমারিই থাকে। পাল্টায় না।

স্বচ্ছ ১ টুকরো কাচের ভেতর আগুন জ্বলছে। ১টা জানলা হাওড়া আর ব্যাঙ্গালোরকে পৃথক করে রাখছে। জানলাটার পর্দা নেই, কোনও পাল্লা বা কাচ বা সার্সি লাগানো নেই, এমনকি কোথাও কোনো দেয়ালও নেই, ওটা দেখতেও জানলার মত না, তবু আমি ওটাকে জানলা বলব। জানলার ওপাশে ১১০ জন। ওদের মধ্যে ১জন প্রথম আছে। ১টা ওয়ান-ওয়ান ম্যাপিং তৈরী করেছি, ডোমেনে আমি আর কো-ডোমেনে ১১০ জনের ১ম জন। দূরত্ব -- জানলার প্রস্থ ও দুটি বিন্দুর ব্যাসের যোগফলের সমান। যে দূরত্ব ট্রেন পাড়ি দেয় প্রায় দেড় দিনে, যে দূরত্বে প্লেন ওঠা নামা করে।

        (৮)

সেই দীঘি। সেই অন্ধ পুকুর। সেই ডালিয়া ফুল। সেই পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-দামোদর-রূপনারায়ন-চড়ুইভাতি-কাঁকর-দাদুর পেসমেকার-দ্বৈত ছবি-বন্ধ চোখ-ঠোঁট-ঠোঁট-

এই এত্তবড়ো চাঁদ। কেমন ড্যাবড্যাবে চোখে চেয়ে আছে। এই প্রতীক্ষার রাত ৩ বছরের। এই ৩বছরে কোনও দিন নেই - রাত নেই - কোনও আলো-অন্ধকার কিচ্ছু নেই। শুধু চেয়ে থাকা - গাঁট গোনা। মাঝে মাঝে জল বাতাসা।

বিছানাভর্তি মিকিমাউস। বাঁ পায়ের ওপর ডান পা তুলে বসে আছে ম্যান্। ধাঁ করে ১টা প্রশ্ন ছুটে এল কোনাকুনি - হোয়্যাটস ইওর প্রবলেম ম্যান্!! মেঘলা নীচে উবু হয়ে বসে চায়ে চিনি গুলছে। ম্যান্ অবাক চোখমুখে চেয়ে আছে জানলার বাইরে। এই মুহুর্তে কোনও সময় নেই এবং সময়ের প্রয়োজনও নেই।

টিউবলাইট। পুরোটা দেখা যাচ্ছে না। দেখা আসছে না। জ্বালালে কিছুটা আলো হয়ত পাওয়া যেত। কিন্তু পুরো আলোটা তো পাওয়া যাবে না, তাই জ্বালছি না।

        (৯)

ভেবেছিলাম প্রত্যেকটা পাতায় ১একটা নম্বর দেব। ভেবেছিলাম মোট ১০ পাতা লিখব। এই ৮ নম্বর পাতার শেষে এসে আর পারলাম না। একই পাতায় দু’দুটো নম্বর এসে বসল। চেপে বসল। ওরা কেউ দাঁড়াতে চাইছে না।

        (১০)

৯ নম্বর পাতায় এসে আমি দশের কাজটা সেরে ফেলব। তারপর ১আধবার চায়ে চুমুক দেব। সিগারেট-মদ-গাঁজা, ধীরে ধীরে শ্লা দেবতা হয়ে যাব।

প্রত্যেকটা বৃত্তেরই কেন্দ্র থাকে। আমি একটা বৃত্ত তৈরী করব যার কেন্দ্র নেই। আসলে থাকতে পারে না। যেটার স্পর্শক তাকে স্পর্শ করবে না কোনওদিন। আমি ওই বৃত্তের ভরকেন্দ্র খোঁজার কাজ করব।

এসব কথার মাঝে একটা লোক এসে বসল। চা খেল। বাজার করা নিয়ে কথা বলল। তারপর উঠে চলে গেল।

জীবাশ্ম ভর্তি স্বপ্ন। স্বপ্ন একজন ডাইনোসরের নাম। চা দোকানের লোকটা স্বপ্ন নিয়ে কথা বলছে, জীবাশ্ম নিয়ে কথা বলছে, জুরাসিক পার্ক নিয়ে কথা বলছে |

একটা হাইকমান্ড মেঘ আর একটা হাইকমান্ড মেঘ দিয়ে ঢাকা পড়ে গেলে যাচ্ছেতাই রকমের ইমালসন হচ্ছে। পৃথিবী উপবৃত্তাকার। বাগনান আর ব্যাঙ্গালোর হল দুটি কেন্দ্র। থ্রী ডায়মেনশনে ৩টে অক্ষ ধরে রেখে মূলবিন্দু প্রতিস্থাপন করলেও ওদের দূরত্ব একই থাকে। ঘূর্ণাবর্ত আর ধূর্তবর্ণ পৃথিবীটা শেষ করে দিয়ে গেল |

চলো, বরং চেঁচামেচি খেলি। যার তীব্রতা ২০ ডেসিবেলের বেশি হবে তাকেই আজ রক্ত দিতে বাধ্য করব ||