রবিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২২

দেখা ও না দেখা


একটা সানশ্যেড। তার উপরে কিছু জিনিস রাখা। তার ওপরে পুরনো সিন্থেটিক কাপড় ঢাকা দেওয়া। উপরের দেয়ালের দেখতে পাওয়া অংশে ঝুল পড়েছে। শ্যেডের ঠিক নীচে আরও কিছুটা দেয়াল। মাঝে দরজা। দুপাশে দুটো জানলা। দেয়ালে ২০২০ বিশ্বকাপের সিডিউল লাগানো। তার উপরে একটা ছোট রোনাল্ডোর ছবি।


রাত আটটা ত্রিশ। দালানে একটা প্লাস্টিকের চেয়ারে বসা একটা বছর ত্রিশের ছেলে। ছেলেটার ঠিক মাথার ওপর একটা টিউব লাইট জ্বলছে। একটা শাদা ফ্যাকাশে আলো হ্যাংলার মত চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ২০২০-য় প্রয়োজন-অপ্রয়োজন বুঝে না-বুঝে কেউ নিজেকে দান করে দিচ্ছে, এরকমটা দেখা যায় না। ছেলেটার মুখের দিকে একটা টেবিল আর মুখটা বিকেলের মত। টেবিলের ওপর নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসপত্র। তার পাশেই একটা ইমারজেন্সিলাইট চার্জে দেওয়া আছে। কতক বাসন রাখা। তার পাশে একটা ছোট্ট মিটসেভ। তার পাশে গ্যাস ওভেন আর সিলিন্ডার। ছেলেটার পিছন দিকে একটা আনলা ও তার পিছনে দেয়াল। 


সময়টা শীতকাল। আর একটু পরেই রাতের খাওয়া-দাওয়া সারা হলে যখন লাইট নিভে যাবে, বাইরের অন্ধকারের গাঢ়তা বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাবে, উঠোনের জমে থাকা স্টোনচিপস্ - গাছের শুকনো পাতা - ভেঙে পড়ে যাওয়া বেড়া - মাচার ওপর শিশিরে দেওয়া শাক্ ও ধনেপাতা আর বেল-অপরাজিতা-জবা-টগর-গ্যাঁদা-রাসফুলের গাছ ও সুপুরি-কলা-মেহগণি গাছেরা গল্পে মেতে উঠবে। অথচ সকালে ঘুম থেকে উঠে ছেলেটা দাঁত মাজতে মাজতে যখন ঘুরে বেড়াবে উঠোনের চারপাশে, তখন একটুও বুঝতে পারবে না কিভাবে গাছগুলো জায়গা পরিবর্তন করে নিয়েছে। একটা জবা অন্য জবার জায়গায় গিয়ে বসেছে, গতকাল ডানদিকে থাকা সুপুরি গাছটা।


আজ উত্তর দিকে - আবার পুকুর পাড়ে থাকা আনারস গাছটার জায়গায় গিয়ে উঠেছে গ্যাঁদাগাছটা। আসলে ওরা সবাই জ্ঞাতি। 

মানুষ সব বোঝে, এটা বোঝে না। ছেলেটাও বোঝেনি। সকাল বুঝেছে। তাই রাতের অন্ধকারকে পরিহাস করার জন্য ও প্রতিদিন আসে। 

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন