এখন এখানে বসেই আরো একটা গাছের দিকে তাকিয়ে থাকা যায়। কোনো কিছুর প্রভাব থেকে নিজেকে আড়াল করার কারণ খুঁজতে গিয়ে যখন জীবনটা শেষ হয়ে যাচ্ছে, তখন ভাবি প্রভাব কি শুধু ওরই ছিল, আমার ছিল না ওর ওপর!
এখানে গ্রহ নক্ষত্র নিহারিকা সপ্তর্ষিমন্ডল নিয়ে কথা বলার সুযোগের অপেক্ষায় বহু লোক হাপিত্যেশ করে বসে থাকে, তারপর তাদের দেখা ঘটনার সাথে কেমিক্যাল্ মিশিয়ে তৈরী করে আর একটি ঘটনা। হয়ত সেটা নতুন, হয়ত পুরনো, কিন্তু বাস্তব নয়, পরাবাস্তবও নয়। জাদুবাস্তবতা নিয়ে কথা বলার লোক আমি নয়। ব্যাপারটা কেমন পরাধীন পরাধীন লাগে। বরং এই সময়গুলোতে ছিপ ফেলতে ভালো লাগে, মাছ ধরা পড়লে কাঁটা থেকে ছাড়িয়ে জলে ফেলে দিয়ে আবার ছিপ নিয়ে বসি, ওই একই মাছ ওইদিন আর কখনও পড়ে না। মনে হয়, দিক্ নির্ণয়ের ক্ষমতা মানুষের থেকে পশু-পাখিদের অনেক বেশি।
সারাদিন একা একা থাকার প্রসঙ্গটা মারাত্মক ফেল মেরেছে জানা হয়ে যাবার পর একটু রোগা হয়ে যাবার দিকে ঝুঁকেছিলাম। এখন আরো মোটা হয়ে গেছি, সঙ্গে মোটা হয়ে গেছে আমার চিন্তা ভাবনাগুলো। দেখার শেষ হয় না জেনে যাবার পর দেখাটাই প্রান্তিক হয়ে উঠেছে। একা অর্থে আমি অনেককে পাই। যেমন একা একা আমি ট্রেনে উঠে পড়লাম অথবা একা একটা গাছের পাশে বসে আমি পুকুরের দিকে চেয়ে দেখি রোজ।
শুকনো পাতার মত পুরনো হতে চাই আমি আজ। রাস্তার পাশে পড়ে থাকা শুকনো গাঢ় খয়েরি রঙের, শিরা উঠে যাওয়া, খসখস শব্দ করার অধিকারসহ, সালোকসংশ্লেষ করার অধিকারবঞ্চিত। সাইকেল বাইক বড় গাড়ির অত্যেচার সহ্য করার ক্ষমতাসহ আমি গাছের একটা অতিরিক্ত অংশের মত গাছের তলায় পড়ে থাকতে চাই।
চামড়ার ওপর করা রঙপেন্সিলের কাজের মত বিবস্ত্র হয়ে একা থাকার অধিকার আমি কেড়ে নিতে চাই রাষ্ট্রের থেকে। অথবা একা করে দিতে চাই রাষ্ট্রকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন