গাছের জীবনচর্চা যেমন, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে কেউ সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখুক ছাই না দেখুক, সে বেড়ে যাবে। কথাটা মাথায় লাগল ঋত্বিক ঘটকের একটা সাক্ষাৎকার পড়তে পড়তে। পড়ছিলাম “আন্তর্জাতিক আঙ্গিকের” একটা সংখ্যা।
একসাথে তিনটে সিনেমা করছেন তখন ঋত্বিক ঘটক। একজনকে হাসপাতালের বিছানায় উঠে বসে বলছেন, আমার এই সময় এই সিনেমাটা বানানো উচিত এবং আমারই বানানো উচিত, তাই বানাই। একজন শেফ কবিতা লেখার চেষ্টা করেন না, বা একজন শিক্ষক জাহাজ চালানোর চেষ্টা করেন না। সেরকম একটা বৃক্ষ বীরুৎ হতেও চায় না। এবার বানানোর পর কেউ দেখল না দেখল না, তা আমার জানা উচিত নয়। তাই আমি সেই চেষ্টা করি না।
আমার মনে হল, আমারও তাই করা উচিত, ওসব লিংক শেয়ার ফালতু। কাজ করার সময় কাজটাই করা উচিত, সে কাজ কারও লাভ বা ক্ষতি করতে পারে কিনা, তা তার সামাজিক মূল্যে বিচার্য, এবং এই কাজটি আমি না করলে অন্য যে কেউ যখন হোক করতে পারে, কিন্তু এই সময় এই কাজটা আমি এবং একমাত্র আমিই করতে পারি। তবে লোভ থেকে আমি লিংক শেয়ার করতে পারি বা দেখতে পারি সেটা কেউ দেখল কিনা। সেটা কোনো কাজ নয়।
যাক, এবার কবিতায় আসি।
গাছেদের প্রাসঙ্গিকতা
দেখুন একটা গাছ বাড়ছে
দেখুন গাছটা বাড়তে বাড়তে
আরও একটা বীজ ফেলে দিল
একা একটা গান বাজছে
একই সুরে আরও গান বাড়ছে
বাড়তে বাড়তে একদিন ঠিক বড় হয়ে যাবে
আমি বাড়ির পাশে চারটে বাঁশের বেড়া দিয়েছি
প্রতিদিন দেখি সকালে
ইচ্ছে একদিন ঠিক বেড়াটা বেড়ে যাবে
তারপর পাশে আরো একটা বেড়া হবে
২
দেখুন
আমাদের চারপাশে
সারাদিন কারো কথামত
সারারাত হয়নি
সারারাত কারো কথামত
সারাদিন হয়নি
দেখুন
আমার চারপাশে শুধু অন্ধকার
একমাত্র পবিত্র অন্ধকার
৩
বাজ যেহেতু শিকারী
তাই বাজ মারার জন্যও
শিকারী কাউকে দরকার পড়ে
লোভ লাভ দুঃখ শান্তি আনন্দ
থাকতে নেই শিকারীর
শিকার শুধুমাত্র বোঝাপড়া
৪
টিউবলাইট কেটে গেছে
তাতে আলোর অসুবিধা হবার কথা নয়
আলো একপ্রকার ইল্যুশন
৫
জ্বর আসছে
পরিকল্পিত তত্ত্বের মত
দৃঢ় ও জটিল
সুস্বাদু জঁরের মত
পৃথিবী থেকে
আর একটু দূরে
গড়ে উঠছে
আরও একটা পৃথিবী
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন