শনিবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৮

কনকনে ঠান্ডার কবিতা

যাদের ঘুড়ি ওড়ানোর কথা ছিল

তারা বাঁশি বাজায় রোজ

দুপুরের এসেন্স নিয়ে

রোদ ফিরে যায়

বিকেলবেলা

কাটা মাথা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি

নিজেকে প্যাঁকাটির মত লাগছে

সোজা লম্বা একটা পথে

একটা বিন্দুকে হাঁটিয়ে দিলে

যেমন হয়

তেমনিভাবে আমি

কাটা মাথা নিয়ে

ঘুরে বেড়াচ্ছি সারাদিন

জল থেকে

রোদ উঠে আসছে

যারা ওপর দিকে তাকাতে ভয় পায়

সূর্য তাদের জন্য নীচে নেমে গেছে

আমি সাদা পড়ে আছি উঠোনে




ভোর হয়ে আসছে
ভোর উঠুক
আগে পাঁচিল পড়ুক উঠোনে
ভরে উঠুক মাঠ ও মাটি
চিন্তাভাবনাগুলো ভারী হয়ে আসুক

মাটি থেকে আমার মাথা পর্যন্ত
ভোর হয়ে যাক
ভরে উঠুক
হালকা হালকা
পাতলা পাতলা
কুয়ো ও পতাকা
যেন সুবৃহৎ পাখা মেলে
উড়ে যাবে

নীল ও লাল ও সবুজ
এবং বাদামী ও গাঢ়
বেলুনের মালা



সিগনেচার

ওরা 'সিগনেচার' জানে না। সিগনেচার করে। এতটাই ওরা ওদের মত। নিঃস্বার্থ। নির্মম। ও আলাদা। অথচ ওরা ওরাই। ওরা পাখি। ওরা টেবিল। ওরা পাগল। ওরা হাওয়া-বাতাস। ওরা মহাকাশ সম্পর্কিত।
জানলার বাইরে একটা গাছ দাঁড়িয়ে ছিল। দাঁড়িয়ে আছে। এই যে আগামীকাল আমার দীঘা যাওয়া নিয়ে কথা হচ্ছে সেটা জানে ও। তবুও কোনো বিকার নেই। ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। আরও কয়েকবছর পর যে ওকে কেটে ফেলা হবে, সে ও'ও জানে। কিন্তু প্রতিদিন ও ওর সিগনেচার করেই যায়। সেখানে ও ধরাছোঁয়ার বাইরে, কিন্তু অনুভব করা যায় ওকে। একটা গাছ বলে।
এই যে আমি বলে ফেললাম, আমার দীঘা যাওয়ার কতা অর্থাৎ সমস্যার কতা, মা-এর কথা অর্থাৎ বাবার কথা অর্থাৎ পূর্বপুরুসের কথা, তাতে আমারও কি কোনো  বিকার আছে! মা-এর আছে, কিন্তু বাবার নেই( হ্যাঁ, নেই)। অথচ বাবার ছিল। তাহলে কি বাবার এতটা পরিবর্তন হল! সেটা কি হয়! বাবারা কি পরিবর্তনশীল! আসলে তা নয়, আমি বলতে চাইলাম যে, বাবা বেঁচে নেই। বাবা সারাজীবন বেঁচে থাকে না। সারাজীবন বলতে আমার না মায়ের না বাবার সেটা ঠিক আমি বুঝলাম না। না বুঝেও আমি এত কথা বলে ফেললাম, এটা কি আমার বিকার নয়!
হাসপাতালে ভর্তি থাকার সময় ' বাবাই' বলে ডাকলে বাবা শুধু উঁ-উঁ-উঁ করে তিনবার সাড়া দিত। মারা যাবার আগের এক সপ্তাহ এটাই করেছে। আমি ভাগ্যবান, বাবার শেষ এক সপ্তাহের সিগনেচার আমি ধরতে পেরেছিলাম। বাবার সিগনেচার আমি বয়ে বেড়াচ্ছি। বিন্দু, সরলরেখা, বক্ররেখা, গোলক, বৃত্ত ঘনক, আয়তঘন প্রত্যেক জ্যামিতিক আকারে। এটা কি কোনও সিগনেচার!
এটা কি কোনও সিগনেচার নয়! মা-এর কোনও সিগনেচার আমি বয়ে বেড়াব না!
আমার কোনও সিগনেচার কি কেউ বয়ে বেড়াবে কোনোদিন।!!



রক্তের অনু ঝরে পড়ছে
শিরদাঁড়া শান্ত হয়ে আছে
বৃষ্টির ফোঁটার মত
চৌষট্টি ডিগ্রী নিয়ে
কথা বলছে আকাশ

পাখিগুলো দানা খুঁটছে
যেমন বৈশাখ
একটুকরো বসন্ত আজ
রঙ নিয়ে কথা বলল

রাজহাঁস জল ভরে রাখছে
পুকুরের
দেয়াল ভর্তি লিপ্তপদ
অক্ষর জমিয়ে রাখছে
বর্ষার




বর্ষা যেভাবে আসে

শীত সেভাবে আসে না

গরম জল থেকে

বাষ্প ভিজিয়ে দিচ্ছে আকাশ

ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে প্রকৃতি

রবিবার

আমার বাড়ির নাম

সোমবার

আমার ঘরের নাম

মঙ্গলবার

আমার বিছানার নাম

বুধবার

আমার বালিশের নাম

আমি নিজে

বৃহস্পতিবার

আমার শরীরের নাম

শুক্রবার

বাকি সবাই

শনিবার

1 টি মন্তব্য: