বুধবার, ২৯ মে, ২০১৯

১ টা জ্যামিতিক গ্রহণ - বর্জন




টিউবলাইট। টিউলাইট। জ্বালতে ইচ্ছে করছে না। আজই প্রথম এমন ৯। আগেও এরকম হত।শুধু আজই প্রথম উচ্চারণ করলাম।

আর হয়ত পরে কখনও উচ্চারণ করব না। সেই অমোঘ শব্দ। আলো যার পদবী। তার সঙ্গে আমার দেখা হোক সন্ধ্যেকালে। যেখানে ধোঁয়া ওঠে চা থেকে। চায়ের কাপ থেকে ৯।

-- আপনি সিগারেট খান! কেন! জানেন না, ধূমপান স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক?

-- তুমি জানো, ‘ক্ষতিকারক’ বলে দেগে দেওয়াটা আরও বেশি ক্ষতিকর! আর আমি সিগারেট খাই অন্যমনস্কতা তাড়াতে। এটা আমার নেশা না। আমি খুব অন্যমনস্ক, তাই।

যেমন - ঝড় বাতাসের অন্যমনস্কতা। আর কিছু ৯।

    জানলা দিয়ে একটা ঘড়ি দেখা যাচ্ছে। পাশের বাড়ির। কিন্তু আমার চোখ এখন ঘড়ির নীচের আয়নায়। ও’বাড়ির আয়নার মুখোমুখি কখনও দাঁড়াইনি আমি। দাঁড়িয়েছি মেয়েটার। আজ মেয়েটা আয়নার সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

(২)

পাখা থেকে জল পড়ছে। পাখার নীচটা জলে জলোম্ময় হয়ে রয়েছে। চোখ বন্ধ করব ঠিক করার আগেই বাঁ হাত চশমাটা খুলে নিল। দেখলাম জলভর্তি পুকুর। কুয়াশায় ভর্তি চারপাশ। পুকুরের মাঝে একটা পাখা ফুটে আছে। আমি উঠে দাঁড়াতেই পাখাটা ঘুরতে শুরু করল। আমি দিক্ নির্ণয় করতে লেগে গেলাম।

শব্দ-অক্ষর-রেখা-বাক্য খুলে রেখে দিলাম।কবিতা নগ্ন দাঁড়িয়ে আছে। উপন্যাসের মত। তার সামনে আমি। সে চোখ বন্ধ করে নিল। আমি তার পাশে গিয়ে বসলাম।

“ || হয়ে যাবে || ’’ কথাটা মিথ্যে। পৃথিবীর সব বাক্যই মিথ্যে। কারণ, ওগুলো শুধু অক্ষর আর শব্দ দিয়েই তৈরী। এই অক্ষরগুলো বানানো। সুতরাং….

খোলা দরজা। ১ কুসুম ২ কুসুম ৩

কেউ ভাবলই না, আমি একটা নতুন তৈরী বাড়ির কথা ভাবছি। এখনও যেখানে দরজা বসেনি। পাশে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

        খোলা

          বন্ধের মত

     না খোলার মত ৯

এমনকি এটা নারকেল বা কোন

পাকা বুড়ো ঝিঙের কথাও হতে পারে

        (৩)

‘নিষ্পাপ’ একটা অন্ধের নাম। চোখ নাক মুখ থেকে ঠিকরে বেরনো নীল তাজা কাচের মত। যেন রক্ত - যেন ফ্ল্যুইড।

ভেতর থেকে বাইরে থেকে কোনওকিছুই বলা যাচ্ছে না। বলা আসছে না। যেন হঠাৎ গ্রীষ্মের রাতে শীত পড়ে গেছে। গা-হাতে খুব ব্যথা। এমনকি একটা জোনাকিও নেই যাকে অনেকদূর থেকে চাঁদ বলে ভুল করা যেতে পারে। ঠিক করা যেতে পারে। অথবা পারে না। যেন করাই যায় না। যেন না - যেন হ্যাঁ।

    কা - কা - কা - কা

    কা -        - কা -

প  -   - প


    প -        - প -

এটা কবিতা - এটা গল্প - এটা গদ্য - এটা বিভব - এটা পাখি - এটা ফুল - এটা কুঁড়ি - এটা বাতাস - এটা প্রেম - এটা - না - না - সেটা চাঁচর - সেটা গাজর - সেটা কলা - সেটা তেল - সেটা গাঁঢ় - সেটা - উঁ - হুঁ - ওটা শিশি - ওটা কালি - ওটা উই - ওটা পেঁপে - ওটা চেয়ার - ওটা - ওহ্ - হো - এই গাছ! এই কাম! এই পুরুষ! এই নারী! এই রক্ - তো!- এ-ও-ই-উ-ঁ

        (৪)

চূড়ান্ত L হয়ে আছি। এটা এইমুহুর্তে অক্ষরের পর্দা ছিঁড়ে বেরিয়ে এল। আমি ধারন করলাম ইংরাজীর অক্ষর বলে পরিচিত একটা ধারণাকে।

সোমনাথ বসে আছে। দোকানদার হিসাবে ওর এখন ওটাই করা উচিত। আমার খদ্দের হিসাবে উচিত ওর দিকে হাত বাড়ানো। নামানো। - বাঁড়া, তোমার দিনে ক’বার হয়!

চুপচাপ বোসো | বাল


বাবা মা শখ করে মেয়ের নাম রেখেছে লক্ষ্মী। টুয়েলভে পড়ার সময় লক্ষ্মীকে টুকটুকি বেড়ে যাচ্ছের কৈফেয়ত ও তারপর ফলস্বরূপ টুকিটাকি করতে হল। বৃহস্পতিবার -- একটা অ্যাবর্শন এ্যাক্সিসের নাম।

টিটেনাস  একটা বেড়ালের নাম। তাহলে ইঁদুরের নাম কী সেপটিক্ হতে পারে! জানালার কোথাও নালা নেই, তবু আমরা তাকে জানালা বলি। অথবা শবরীর কোথাও শব। গা রি রি করতে আমাদের বমি করতে হয়। অথচ বমিটা আমাদের পেট থেকেই ওঠে।


        (৫)

সুড়সুড়ি একটা বাংলা পত্রিকার নাম। তাতে কবিতা থাকে গল্প অনুগল্প গদ্য প্রবন্ধ ইত্যাদি। কবিরা স্পেস চায়। যেখানে তারা খেলতে নামবে। নামিবিয়া এখান থেকে অনেক দূর। যেমন - দূরত্ব শুধু ২টো নক্ষত্রেরই হতে পারে। অনেক দূরত্ব অর্থে গদ্যে “প্রেম” নামক কাঠি লেগে যায়। কাঠির গায়ে ঝুল। একটা বুলবুলি এইমাত্র উড়ে গেল। তার ডানায় ছায়ার দাগ লেগে আছে।

গাছের পাতা গাছের চেয়েও বয়সী। এমন মনোভাব থাকলে গাছ ভারী হয়ে যায়। হালকা শব্দের প্রয়োজন ফুরোলে ভারীর ভগ্নাংশে কুয়াশা লেগে থাকে। এক ১বার ফুলগাছে ফল হয়। ১ একবার ফলগাছে ফুল।

সারাদিন পর অথবা সারারাত আগে যার কথা ছিল সে সহবাস করে। বালিশ থেকে শরীর উঠে গ্যাছে। সিলিংটা নেমে আসছে দ্রুত। ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে চারপাশ। মেঝেটা আরও দ্রুত উঠে সামলে দেয়। ঘরটা ঘনক হয়ে উঠল। তুমি ঘোড়া হও। ঘনকের কর্ণ বরাবর আমার অবস্থান।

        (৬)

ঘন দুধের চায়ে বিস্কুট -- একটা অশ্লীল বাক্য। এভাবে বিস্কুট নেতিয়ে পড়ে। তারপর থেকে তার ফুলে ওঠার গল্প।

অ্যানোড আর ক্যাথোডের মাঝের দূরত্বকে ‘প্রেম’বলে। পাশে বসে থাকা বিজ্ঞানী বাথরুম এসে দেখেন -- প্রণয় বেঁধে গেছে। কেউ কেউ গলা সাধছে। বাগানে একধারে পোকারা বিশ্রাম করছে। ওটা কলাগাছ। ওকে আমরা সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে শিউলি বাগানে বসে থাকতে দেখেছি। মা-বাবা-কাকা-পিসি বলে ওটা নাকি কলাবউ। এই প্রথমবার কলাগাছ কলাবউ কলা মোচা থোড় আমি গুলিয়ে ফেলেছি।

এখানে উইড একটা বিষয় হতে পারে। অথবা এই বিষয়ে কথা বলা বারন হতে পারে। প্রাসঙ্গিকতা বাড়াতে অর্থাৎ নিজেকে টিকিয়ে রাখতে বা কেউ কিছু লিখেছে বলেই কি আমি এই নভেম্বরে বসে এর'ম একটা লেখা লিখছি! আমার কি সত্যিই কিছু বলার নেই!! আমি কি ভীতু!!!

প্লিজ, ১টা সিগারেট দিন আর ১শ -২০ দিয়ে একটা পান। ধৈর্য্য ধরুন, সিগারেটটা খেতে দিন। না- না টোটালের স্ট্রবেরী ফ্লেভার দিন ১টা।

দাঁড়ান, দাঁড়ান, চা দিন তো একটা।

        (৭)

জীবনের চরম শব্দগুলোর পাপড়ি ঝরে পড়ার পর যেটা পড়ে থাকে সেটাই জীবন। স্বয়ং। যেমন - আলমারি থেকে কাচ খুলে নিলেও সেটা আলমারিই থাকে। পাল্টায় না।

স্বচ্ছ ১ টুকরো কাচের ভেতর আগুন জ্বলছে। ১টা জানলা হাওড়া আর ব্যাঙ্গালোরকে পৃথক করে রাখছে। জানলাটার পর্দা নেই, কোনও পাল্লা বা কাচ বা সার্সি লাগানো নেই, এমনকি কোথাও কোনো দেয়ালও নেই, ওটা দেখতেও জানলার মত না, তবু আমি ওটাকে জানলা বলব। জানলার ওপাশে ১১০ জন। ওদের মধ্যে ১জন প্রথম আছে। ১টা ওয়ান-ওয়ান ম্যাপিং তৈরী করেছি, ডোমেনে আমি আর কো-ডোমেনে ১১০ জনের ১ম জন। দূরত্ব -- জানলার প্রস্থ ও দুটি বিন্দুর ব্যাসের যোগফলের সমান। যে দূরত্ব ট্রেন পাড়ি দেয় প্রায় দেড় দিনে, যে দূরত্বে প্লেন ওঠা নামা করে।

        (৮)

সেই দীঘি। সেই অন্ধ পুকুর। সেই ডালিয়া ফুল। সেই পুরুলিয়া-বাঁকুড়া-দামোদর-রূপনারায়ন-চড়ুইভাতি-কাঁকর-দাদুর পেসমেকার-দ্বৈত ছবি-বন্ধ চোখ-ঠোঁট-ঠোঁট-

এই এত্তবড়ো চাঁদ। কেমন ড্যাবড্যাবে চোখে চেয়ে আছে। এই প্রতীক্ষার রাত ৩ বছরের। এই ৩বছরে কোনও দিন নেই - রাত নেই - কোনও আলো-অন্ধকার কিচ্ছু নেই। শুধু চেয়ে থাকা - গাঁট গোনা। মাঝে মাঝে জল বাতাসা।

বিছানাভর্তি মিকিমাউস। বাঁ পায়ের ওপর ডান পা তুলে বসে আছে ম্যান্। ধাঁ করে ১টা প্রশ্ন ছুটে এল কোনাকুনি - হোয়্যাটস ইওর প্রবলেম ম্যান্!! মেঘলা নীচে উবু হয়ে বসে চায়ে চিনি গুলছে। ম্যান্ অবাক চোখমুখে চেয়ে আছে জানলার বাইরে। এই মুহুর্তে কোনও সময় নেই এবং সময়ের প্রয়োজনও নেই।

টিউবলাইট। পুরোটা দেখা যাচ্ছে না। দেখা আসছে না। জ্বালালে কিছুটা আলো হয়ত পাওয়া যেত। কিন্তু পুরো আলোটা তো পাওয়া যাবে না, তাই জ্বালছি না।

        (৯)

ভেবেছিলাম প্রত্যেকটা পাতায় ১একটা নম্বর দেব। ভেবেছিলাম মোট ১০ পাতা লিখব। এই ৮ নম্বর পাতার শেষে এসে আর পারলাম না। একই পাতায় দু’দুটো নম্বর এসে বসল। চেপে বসল। ওরা কেউ দাঁড়াতে চাইছে না।

        (১০)

৯ নম্বর পাতায় এসে আমি দশের কাজটা সেরে ফেলব। তারপর ১আধবার চায়ে চুমুক দেব। সিগারেট-মদ-গাঁজা, ধীরে ধীরে শ্লা দেবতা হয়ে যাব।

প্রত্যেকটা বৃত্তেরই কেন্দ্র থাকে। আমি একটা বৃত্ত তৈরী করব যার কেন্দ্র নেই। আসলে থাকতে পারে না। যেটার স্পর্শক তাকে স্পর্শ করবে না কোনওদিন। আমি ওই বৃত্তের ভরকেন্দ্র খোঁজার কাজ করব।

এসব কথার মাঝে একটা লোক এসে বসল। চা খেল। বাজার করা নিয়ে কথা বলল। তারপর উঠে চলে গেল।

জীবাশ্ম ভর্তি স্বপ্ন। স্বপ্ন একজন ডাইনোসরের নাম। চা দোকানের লোকটা স্বপ্ন নিয়ে কথা বলছে, জীবাশ্ম নিয়ে কথা বলছে, জুরাসিক পার্ক নিয়ে কথা বলছে |

একটা হাইকমান্ড মেঘ আর একটা হাইকমান্ড মেঘ দিয়ে ঢাকা পড়ে গেলে যাচ্ছেতাই রকমের ইমালসন হচ্ছে। পৃথিবী উপবৃত্তাকার। বাগনান আর ব্যাঙ্গালোর হল দুটি কেন্দ্র। থ্রী ডায়মেনশনে ৩টে অক্ষ ধরে রেখে মূলবিন্দু প্রতিস্থাপন করলেও ওদের দূরত্ব একই থাকে। ঘূর্ণাবর্ত আর ধূর্তবর্ণ পৃথিবীটা শেষ করে দিয়ে গেল |

চলো, বরং চেঁচামেচি খেলি। যার তীব্রতা ২০ ডেসিবেলের বেশি হবে তাকেই আজ রক্ত দিতে বাধ্য করব ||

1 টি মন্তব্য: